«
»

‘ভারত মাতা কি জয়’ না বলায় সংসদ সদস্যপদ স্থগিত

AMADERSHOMOY.COM
মার্চ ১৭, ২০১৬

varot-mata-400x300ওমর শাহ : ভারতের মহারাষ্ট্রে ‘ভারত মাতা কি জয়’ শ্লোগান না দেওয়ায় এক মুসলিম সাংসদের সদস্যপদ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার মহারাষ্ট্রের এ্যাসেম্বলি চলাকালীন সময়ে মজলিসুল ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা ওয়ারেস পাঠান বলেন, আমি জয় হিন্দ শ্লোগান তো দেব, তবে ‘ভারত মাতা কি জয়’ শ্লোগান দেব না। কারণ ভারতীয় আইন এর অনুমোদন করে না।
ওয়ারেস পাঠানের এ বক্তব্যের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতারা তার কঠোর বিরোধিতা করেন। সেই সঙ্গে তারা ওয়ারেস পাঠানের সংসদ সদস্যপদ স্থগিত করার দাবি জানান। এ সময় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ওয়ারেস পাঠানের সংসদ সদস্যপদ জাতীয় বীরদের অপমান এবং শ্লোগান না দেওয়ার কারণে তার সংসদ সদস্যপদ স্থগিত করা হলো।
ভারতের আরএসএস মোহন ভাগবতের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক শুরু হয়। আরএসএস প্রধান বলেছিলেন ‘সময় এসেছে নতুন প্রজন্মকে ‘ভারত মাতা কী জয়’ সেøাগান দিতে বলার। যুব সমাজের প্রকৃত, সার্বিক, স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের অংশ হবে এই সেøাগান।
কিন্তু মোহন ভাগবতের এ পরামর্শের বিরোধিতা করেন এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। লাতুরে এক জনসভায় তিনি বলেছেন, আমি ওই সেøাগান দিই না। কী করবেন ভাগবত সাহেব! আমার গলায় ছুরি ধরলেও ওই সেøাগান মুখে আনব না।
তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আসাদুদ্দিন ওয়েইসির জিহ্বা কাটতে পারলে পুরস্কারে ঘোষণাও করা হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা শ্যাম দ্বিবেদি ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি ‘আসাদুদ্দিন ওয়েইসি’র জিহ্বা কাটতে পারবে তাকে এক কোটি ভারতীয় রুপি পুরস্কার দেয়া হবে।
এ দিকে ওয়েইসির সমালোচনা করেন গীতিকার জাভেদ আখতার। জাভেদ আখতার ওয়েইসির উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে বর্তমানে এমন একজন নেতা রয়েছেন, যিনি বাস্তবে রাষ্ট্রের নেতাতো ননই, কোনও রাজ্যেরও নেতা নন। তিনি আসলে হায়দ্রাবাদের একজন এলাকার নেতা। ওয়েইসি বলেছিলেন, ভারতীয় সংবিধান তাঁকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে বলেনি, তাই তিনি বলবেন না। এবিষয়ে জাভেদ আখতারের বক্তব্য, ভারতীয় সংবিধানতো তাঁকে শেরওয়ানি বা টুপিও পড়তে বলেননি, তাহলে তিনি পড়ছেন কেন?
গীতিকারকে আবার পাল্টা আক্রমণ করে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারেস পাঠান বলেন, জাভেদ আখতার ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ধর্ম-টুপিকে অসম্মান করেছেন। প্রতিটি মুসলিমের কাছে এই টুপিটি হল মুকুটের মতো। এ সময় তিনি তার ‘ভারত মাতা কি জয়’ শ্লোগান দিতে অস্বীকার করেন।