শিবসেনার অপকর্মের কালি লাগছে মোদির মুখেই

India5-400x266রোকন রাইয়ান : ভারতে বর্তমানে বিজেপির শাসন চলছে না শিবসেনার? নিঃসন্দেহে শিবসেনার শাসনই দেখছে বিশ্ব। এমন কোনো কাজ নেই যেখানে তাদের হস্তক্ষেপ নেই। প্রতিনিয়তই দলটি উস্কে দিচ্ছে সাম্প্রদায়িকতাকে।
শিবসেনার বর্তমান অস্ত্র কালি। রাস্তায় এরা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মুখে কালি মেখে দিচ্ছে। কতটা জঘন্য মানসিকতা হলে এরকমটি হতে পারে। অথচ এ রাষ্ট্রটি সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দাবিদার। তাদের এমন কর্মকা- বিশ্বকে লজ্জায় নত করে দিচ্ছে।
ভারতে কেবল মুসলিমরাই সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে না। হিন্দু ছাড়া অন্য সব ধর্মাবলম্বীদের অবস্থাও অনুরূপ। সবাই শিকার হচ্ছেন সাম্প্রদায়িক হামলার। শিবসেনার উগ্র চোখ সবাইকেই কামান দাগিয়ে যাচ্ছে।
কেবল ধর্মীয় বিষয়ে কঠোরতায় এরা সীমাবদ্ধ নয়। শিবসেনা কালচালার প্রোগ্রামেও হামলা চালাচ্ছে। এমনকি খেলার মতো নিরেট বিনোদনের জায়গাটিও তাদের হামলার বাইরে থাকেনি।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশির্বাদপুষ্ট উগ্রপন্থি দলটির মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটেছে। আর এ কারণেই একের পর এক হাস্যকর ও নিকৃষ্ট কাজ করে চলেছে দলটি। জম্মু কাশ্মীরের পার্লামেন্টারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার রশিদের মুখে তাদের কার্মীরা কালি মেখে দিয়েছে। এ ঘটনা পুলিশের সামনেই ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের কিছুই বলেনি। বরং চুপ থেকে সমর্থন দিয়ে গেছে। পরে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে এ হামলা থেকে বাঁচিয়েছেন।
ঘটনা শুধু এটুকুই নয়। শিবসেনা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেও হামলা করেছে সেখানে পাকিস্তানি আম্পায়ার থাকার কারণে। বোর্ডে তখন পাক ভারত ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। শিবসেনা সেখানেও হামলে পড়ে। যার কারণে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরো দূরে সরে গেল বলে মানছেন বিশ্লেষকরা।
গত সপ্তাহে দেশটিতে শিখদের ধর্মীয় গ্রন্থের অবমাননা করা হয়েছে। এসব ঘটনা দেশটিতে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে বিশ্ব এখনো মুখ খুলছে না এসবের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখনো নিশ্চুপ শিবসেনার এমন উগ্র কর্মকা-ে। প্রশ্ন হতে পারে, ভারত বা হিন্দুদের জন্য এসব কাজ কি তাহলে বৈধ?
হিন্দুরা গরুকে মা হিসেবে জানে। কিন্তু অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও তারা এটি মানতে বাধ্য করছে। এমনকি দেশটিতে মুসলিমরা গরু খেয়েছে নিছক এমন সন্দেহেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, ভারতীয়রা অনলাইনে গরুর গোবর বিক্রি করছে। এত সম্মানি হলে গোবর কেন বেচে দিচ্ছে। অবশ্যই সেটা সংরক্ষণ করা উচিত নিজেদের।
গত সপ্তায় এক পাকিস্তানি পরিবার দেশটির কোনো হোটেলে থাকার জন্য জায়গা পায়নি। পাকিস্তানি বলে সব হোটেল মালিকই তাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। দুজন বাচ্চা নিয়ে পরিবারটি স্টেশনে রাত কাটিয়েছে। কাশ্মীরের ওপর অত্যাচারের পাহাড় তৈরি করছে ভারতীয় সেনারা। এসব করে ভারত শেষ পর্যন্ত কী দেখাতে চায়? বিশ্বকে কী দেখাতে চায় ভারত? প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতের ওপর নির্ভরশীল?
মোদি বরং এসব করে নিজের মুখেই কালি মাখছেন। শিবসেনার ছুড়ে দেয়া কালিতে তার মুখই কালো হচ্ছে। আর এর ফলাফল খুব একটা ভালো নয়। সময়ই সেটা বুঝিয়ে দেবে মোদি সরকারকে। -ডেইলি পাকিস্তান থেকে অনুবাদ