সরকার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে

ershad-3_168595-400x266ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকার দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মানুষ আজ শ্বাস নিতে পারছে না। মুক্ত বাতাস নিতে পারছে না। দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। কারো জীবনেই কোনো স্বস্তি নেই। প্রতিনিয়ত লাশ আর লাশ।
সোমবার বিকেলে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে জাতীয় পার্টি ছাড়া এখন আর কেউ মাঠে নেই। অসহায় জনগণের পাশে একমাত্র আমরাই আছি। বিএনপিও মাঠ নেই। এ সুযোগে আওয়ামী লীগ লুটপাট আর দখলবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশে এমনই সুশাসন চলছে যে, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুরাও আজ রেহাই পাচ্ছে না। তাদেরও গুলিতে নিহত হতে হচ্ছে। দিন-দুপুরে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এসব গর্হিত কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে জোট করলেও তারা আমাদের কোন ধরনের ছাড় দেয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে অনেক আসন আমাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও কথা রাখেনি তারা। তারা বেঈমানি করেছে। গত নির্বাচনে পটিয়া পৌরসভা জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি তারা। তাই আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তারা ছাড় না দিলে সব জায়গায় আমরা প্রার্থী দেব।
আগামী পৌরসভা নির্বাচনে পটিয়া পৌরসভায় দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শামসুল আলম মাষ্টারকে প্রার্থী ঘোষণা করেন এরশাদ।
জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সামশুল আলম মাষ্টারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সংসদ সদস্য তাজ রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর জাপার সভাপতি মাহজাবীন মোরশেদ, কক্সবাজার আসনের সাংসদ মৌলভী ইলিয়াছ, সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাপার সভাপতি শফিউল ইসলাম বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক নুরুচ্ছফা সরকার, যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।
এদিকে সম্মেলনে এরশাদ বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চে উঠা নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিত-া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশৃক্সখলার সৃষ্টি হয়। পরে দলের সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সম্মেলনে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সামশুল আলম মাষ্ঠারকে সভাপতি ও নুরুচ্ছফা সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে নেতাদের নির্দেশ দেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ।