ঝড়ে শ্রেণিকক্ষের চালা উড়ে

basharBhaluka01-10-15-400x285আবুল বাশার শেখ ভালুকা প্রতিনিধিঃ ভালুকা উপজেলার রান্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের চালা সম্প্রতি এক ঘূর্ণীঝড়ে উড়ে যাওয়ায় সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বেস্তে যেতে বসেছে। ফলে আসন্ন জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের লেখা-পাড়া নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকরা চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রান্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে এমপিওভূক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়া-লেখা করছে। কিন্তু অবকাঠামোর অভাবে সার্বক্ষণিক চরম দূর্ভোগের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখা-পাড়া করতে হচ্ছে। কিন্তু শ্রেনীকক্ষ ও অবকাঠামের অভাবে চরম দূর্ভোগের মধ্যদিয়ে বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ৫৫ হাত লম্বা একটি মাটির তৈরী টিনের চালা ঘরেই দীর্ঘদিন ধরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতের হঠাৎ এক ঝড়ে ওই ঘরের টিঁনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। দুই মাস পর জেএসসি ও তার কিছুদিন পর এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এই ভেবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকগণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমান ফরহাদ জানান, ঝড়ে শ্রেণীকক্ষের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অতি দ্রুত শ্রেণীকক্ষের মেরামতসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিস বিভাগের আওতায় নতুন ভবণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক মো: রুহুল আমীন জানান, ঝড়ে শ্রেণীকক্ষের চালা উড়ে নিয়ে যাওয়ার পর মাটির তৈরী দেয়ালগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। তা নাহলে বৃষ্টির পানিতে দেয়াল ভিজে ধসে বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।
বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার নুরুল আলম জানান, স্কুলের মোট ঘর রয়েছে তিনটি। একটিতে অফিসসহ দুটি ক্লাসরোম রয়েছে। ১৯১৩ ইং সালে জেলা প্রশাসক কর্তৃক তিন লাখ ৩০ হাজার টাকায় আধাপাকা একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। তাছাড়া যে ঘরের টিনের চালা সম্প্রতি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে তা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ওই ঘরেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়েছিল। ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পথে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার জানান, সম্প্রতি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত রান্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমার নলেজে রয়েছে এবং তা অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।