নয় মাসে পুলিশ-র‌্যাবের হেফাজতে নিহত ১৪৮

ask_330467-400x229নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের নয় মাসে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ১৪৮ জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে কারাহেফাজতে ৩১ হাজতিসহ মোট ৫২ জন নিহত হয়েছেন।
হেফাজতে নিহতদের মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ৩২ জন, পুলিশ ক্রসফায়ারে ৫৫ জন, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের ক্রসফায়ারে দুইজন, ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে ১১ জন, যৌথবাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন নিহত হয়েছে।
এছাড়া পুলিশের নির্যাতনে ছয়জন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে একজন মারা গেছে। পুলিশের গুলিতে ২২ জন, বিজিবির গুলিতে দুইজন ও ডিবি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে আরও একজন।
থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন, তিনজন, গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজন এবং র‌্যাব হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া ট্রেনে কাটা পড়ে এক জনের (পরিবারের দাবি পুলিশ ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যা) মৃত্যু হয়েছে।
জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য ও আসকের নিজস্ব সংগৃহীত তথ্যের আলোকে সংখ্যাগত এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে আসক জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীল অভিযোগ অনুযায়ী সাদা পোশাকে আসা ব্যক্তিরা আইনশৃক্সখলা বাহিনীর পরিচয়ে গত নয় মাসে ৪৩ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে পরবর্তীতে ছয়জনের লাশ পাওয়া গেছে। চারজন ফেরত এসেছে ও পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তবে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অপর ২৮ জনের পরিণতি সম্পর্কে আসকের প্রতিবেন কোনো উল্লেখ নাই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংঘাতে নয় মাসে হয়েছে মোট ৭৪০টি। এতে নিহত হয়েছেন ১৪৩ জন ও আহত হয়েছেন ৪৮৫৪ জন।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩০টি বাসস্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ১৪৬ প্রতিমা, পুজামন্ডপ ও মন্দির ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জন।
আসক আরও জানায়, নয় মাসে সারাদেশে ১৯১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন।
সীমান্ত সংঘাত প্রসঙ্গে আসক জানায়, নয় মাসে বিএসএফের গুলিতে ২৩ জন, নির্যাতনে মৃত্যু ১২ জন, আহত হয়েছেন ৫৮ জন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন ৫৩ জন। নয় মাসে গণপিটুনি নিহত হয়েছে ১০৪ জন।
নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে আসক জানায়, এসিড নিক্ষেপের শিকার হযেছে ২৪ জন এবং মারা গেছে একজন। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে নয় নারী আত্মহত্যা করেছেন। যৌন হয়রানি প্রতিহত করতে গিয়ে দুই নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন।
গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন চারজন এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।
গত নয় মাসে পরিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে ২১৪ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ৪৫ জন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৩ নারী। যৌতুকের কারণে আত্মহত্যা করেছেন নয় নারী।
এ সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৯১ নারী ও শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৮ জনকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন একজন।