বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে

Capture38বাপ্পী রহমান : মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন: বাংলাদেশ অগ্রগতি প্রতিবেদন, ২০১৫ অনুসারে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নির্মূলে প্রশংসনীয় অগ্রগতি সাধন করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে। এমডিজি অর্জনের নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর আগেই এ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। একই সাথে এমডিজি’র সামাজিক ও মানব উন্নয়ন সূচকে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এমডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হওয়ায় তা দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এমডিজিতে বার্ষিক দারিদ্র্য বিমোচনের হার ১ দশমিক ২০ শতাংশ মানে রাখার লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বছরে গড়ে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানে দারিদ্র্য বিমোচন করেছে। এছাড়াও শিশুমৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অর্জন বেশ ভালো। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শিশুমৃত্যু হ্রাসে এমডিজি’র লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতি এক হাজার শিশু জš§ নেয়ার পর বয়স ৫ বছর হওয়ার আগেই ১৫১ জন শিশু মারা যেত। ২০১৩ সালে এভাবে শিশুমৃত্যুর হার কমে ৪১ হয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতি এক হাজার নবজাতকের মধ্যে ৯৪ জন মারা যেত। ২০১৩ সালে তা নেমে এসেছে ৩২ জনে। মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য এমডিজিতে যে লক্ষ্য রয়েছে তাতেও বাংলাদেশ সফল হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরোও বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে প্রতি এক লাখ সন্তান জš§ দিতে গিয়ে ৫৭৪ জন মা মারা যেত। ২০১৩ সালে প্রতি এক লাখ সন্তান জš§ দিতে গিয়ে ১৭০ জন মা মারা যান। এমডিজি’র মেয়াদকালে প্রতিবছর গড়ে ৩ শতাংশ হারে মাতৃমৃত্যু কমানোর লক্ষ্য রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ হারে কমিয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ। বালকদের ক্ষেত্রে ৯৬ দশমিক ৬ ও বালিকাদের ক্ষেত্রে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার হার ৮১ শতাংশ, প্রাপ্তবয়স্ক স্বাক্ষরতার হার পুরুষ ৭৪ শতাংশ ও নারী ৭৭ শতাংশ।
তাই একথা বললে অত্যুক্তি হবে না, বাংলাদেশ এখন মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বিশ্বে একটি রোল মডেল। এমডিজিকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে। জাতিসংঘের ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর গৃহিত সমন্বিত পদক্ষেপেই আজকের এই অর্জন।
বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য, অসাম্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ ১৭টি ক্ষেত্রে বিশ্বকে এগিয়ে নিতে ১৫ বছরের নতুন লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গৃহিত হয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের মেয়াদ পূর্তিতে নেওয়া ‘উচ্চাভিলাষী’ এই পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে, ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এসডিজি। লক্ষ্যমাত্রায় থাকছে দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যমান অর্জন, মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর সর্বজনীন ক্ষমতায়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ সামুদ্রিক সম্পদ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐকমত্য।
২০১৬ সাল থেকে শুরু হচ্ছে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি। লক্ষ্য ২০৩০। এমডিজি’র সাফল্যের যাত্রা এসডিজিতেও অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ, এই স্বপ্ন ছোঁয়ার সাধ জাগাটা মোটেও অমূলক নয়, বরং খুবই বাস্তব।
লেখক : গবেষক ও শিক্ষক, জবি