ইতালির নাগরিক খুন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

Capture37ইমতিয়াজ আহমেদ : প্রথমত যে কোনো ধরনের হত্যাকান্ডই একটি দেশের জন্য অনভিপ্রেত। সেক্ষেত্রে যদি কোনো বিদেশি কূটনীতিক বা নাগরিক খুন হন, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি জঙ্গি (আইএস) সংগঠনগুলো সারা বিশ্বে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে তারা টার্গেট করেছে। তাই বিষয়টিকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ইতালির নাগরিক হত্যার ঘটনাটি যদি বিচ্ছিন্ন হোক আর সংঘবদ্ধ হোক, এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিদেশি নাগরিকরা এখন থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হতেই হবে।
ইতোমধ্যে আমাদের আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, এটি পরিকল্পিত খুন। বিদেশি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে ‘মার্কিন স্বার্থের ওপর’ জঙ্গি হামলার ‘সম্ভাব্য পরিকল্পনার’ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশসহ এসব দেশে তাদের নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি দলগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা, মার্কিন নাগরিক ও মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। বাংলাদেশে জঙ্গিরা অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে আঘাত হানতে পারে বলেও একটি তথ্য পাওয়া গেছে।
গুলশানে ইতালির নাগরিক খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক। এটাকে বিচ্ছিন্ন বা হালকা ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। এ ঘটনাটি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণীমহল থেকে কোনো উদাসীন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না। বরং দ্রুত ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দোষীদের গ্রেফতার করা উচিত। এ ঘটনায় আমাদের ভাবমূর্তি অনেক ক্ষুণœ হয়েছে। এদিকে আইএস এর দায় স্বীকার করেছে। এটিও খুঁজে দেখতে হবে। আইএসের দোহাই দিয়ে অন্য কোনো চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে কিনা? খেয়াল রাখতে হবে, এসব ঘটনার গাফলতিতে দেশ যেনো কোনো বড় সংকটে না পড়ে। জঙ্গি সন্ত্রাস বন্ধে প্রয়োজনে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে সবার আগে ইতালিয় নাগরিক হত্যার ঘটনার ক্লু বের করতে হবে।
লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অনুলিখন : উম্মুল ওয়ারা