প্রশ্নের উত্তর মিলে ব্রাশ ফায়ারের মাধ্যমে (ভিডিও)

shukantoমোহাম্মদ হোসাইন : মায়ের কোলে যাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি সুকান্তর। খুনিদের গুলি থেকে বাঁচতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুর নাতি সুকান্ত বাবু আব্দুল্লাহ। ভয়াল ও আতংকের ১৫ আগস্টের সেই কাল রাতে, খুনিচক্র প্রথমেই হামলা চালায় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে। যে ঘটনায় নিহত হন ১৩ জন।
বেঁচে থাকলে এখন ৪৪ এ পা দিতেন সুকান্ত। দুরন্ত ছিলেন বলে, বরিশালের কালীবাড়ির বাসায় তার জন্য বারান্দা আর দরজায় লাগানো হয়েছিলো আলাদা গ্রীল। মায়ের মন এখনো কাঁদে সে কথা ভেবে। বড় ছেলের ছবিতে হাতড়ে বেড়ান পুরনো স্মৃতি। বাসায় রাখা অ্যালবাম সান্তনা খুজে ফেরেন সুকান্তর মা শাহানারা আব্দুল্লাহ।
সুকান্তর মা শাহানারা আব্দুল্লাহ সে সময়ের স্মৃতি কথা স্বরণ করে বলেন, সুকান্তকে নিয়ে আমরা অনেক কষ্ট করছি। গ্রামে কোথাই দুধ পাব। দুধ না পেয়ে ছয় মাসের বাঁচ্চাকে ভাত খাওয়ার অভ্যাস করলাম।
বর্তমান ২৭ মিন্টু রোডের ডিএমপি সদর দপ্তরে সেসময় থাকতেন আবদুর রব সেরনিয়াবাত। ১৫ আগস্ট শুরুতেই ডালিমের নেতৃত্বে খুনী চক্রের প্রথম হামলা এই বাড়িতেই। আক্রমণ বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু ও শেখ মনিকে ফোন করেন তিনি। জানতে পারেন ঘাতকের তা-ব চলছে সেখানেও।
সুকান্তর মা শাহানারা আব্দুল্লাহ আরও বলেন, হামলার সময় আমার শাশুড়ি শশুড়কে বলে আমার ভাইকে ফোন কর। আমাদের বাসায় ডাকাত পড়ছে। আমার শশুর বলে আরে মন্ত্রীর বাড়িতে ডাকাত কোথা থেকে পড়বে। বঙ্গবন্ধুকে সে ফোন করলে ওপাশ কি বলছে জানি না কিন্তু আমার শশুর খালি বলল তোমার ভাই এই হামলা থেকে রেহাই পায় নাই।
বন্দুক আর গুলির মাঝে ঘুম ভেঙ্গে মায়ের কোলে যাবার জন্য হাত বাড়ান শিশু সুকান্ত বাবু আব্দুল্লাহ। কিন্তু কোলে আর ওঠা হয়নি সুকান্তের। ঘাতকের দল পরিবারের সবাইকে জড়ো করে ড্রইং রুমে। তোমরা কি আমাদের মাইরা ফেলবা সুকান্তের নানীর ঘাতকদের কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলে ব্রাশ ফায়ারের মাধ্যমে।
সে কথা আজো মন করে, হাহাকার মায়ের মনে। চাওয়া, যে যেখানেই থাকুক ফিরিয়ে এনে যেন ফাঁসিতে ঝোলানো হয় সব খুনীদের। খবর : চ্যানেল২৪।