জাস্ট মৌমিতা

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 23/06/2017 -13:57
আপডেট সময় : 23/06/ 2017-13:57

 

যায়নুদ্দীন সানী : jaynuddin sunnyসীমার সঙ্গে এখনো সম্পর্ক আছে? ডাইনিং টেবিলে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমি আর রুমা। রুমা আমার স্ত্রী। প্রশ্নটা সেই করেছে। একটু সন্দেহ বাতিক আছে, তবে ব্যাপারটা এঞ্জয়ই করি। কখনো কখনো তো নিজেই ক্লু দিই, ‘জানো, আজকে ঈশিতার সঙ্গে দেখা।’ পরের প্রশ্নগুলো থাকত গৎবাঁধা। কে, কবে থেকে চেনো, কি বলল এটসেট্রা। কখনো সত্যি কখনো বানিয়ে বানিয়ে গল্প শোনাতাম। এরপরের অনুরোধটাও থাকত গৎবাঁধা, ‘আমি চাই না ওর সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখ’। এসব অনেকটাই গা সওয়া হয়ে গেছে। তবে আজকের ঘটনাটা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। মাথায় আসছে না। কোন সীমার কথা বলছে। সীমা নামে আর কাউকে কি চিনি?
¬Ñ কোন সীমা?
রুমার চোখে সন্দেহ বেশি? না ক্রোধ? ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। আমার উত্তর শোনার পরে কিছু না বলে আবার খাওয়া শুরু করল। উত্তর না পেয়ে আবার ট্রাই করলাম।
Ñ আরে বাবা বলবে তো কোন সীমা?
বাঁকা চোখে একবার তাকিয়ে আবার খেতে শুরু করল। খেতে খেতেই, আমার দিকে না তাকিয়ে বলল,
Ñ কটা সীমাকে চেন?
ও, তাহলে এই ব্যাপার। সীমা বলতে আসলে আমি একজনকেই চিনি। আমার প্রথম এবং প্রাক্তন স্ত্রী। ডিভোর্সড বাই মি। আর সেটাও তেমন কোনো কারণ ছাড়া। কাহিনী তেমন কিছু না। মধ্যবিত্ত আর ভীতু প্রেমিকদের যা হয়, প্রেমের কথা বাসায় বলতে পারিনি। না বোধহয় একটু ভুল বললাম। সেই সময়ে প্রেম ঠিক ছিল না। প্রাক প্রেম স্টেজ ছিল। চোখাচোখি, স্বপ্ন দেখাদেখি অবস্থা আর কি। একই অফিসে কাজ করতাম আমি আর রুমা। অপূর্ব সুন্দরী। আমিসহ বেশ কয়েকজন ছিলাম পানি প্রত্যাশী। আমার কপালে শিকে ছিঁড়বে তা ভাবিনি। আর ঠিক সেই সময়ে ফ্যামিলি থেকে বিয়ে ঠিক করে ফেলে। রুমাকে পাওয়ার তেমন কোনো উজ্জ্বল সম্ভাবনাও যেমন ছিল না তেমনি বাবাকে না বলবার মতো সাহসও জোগাড় করতে পারিনি। সো, কবুল বলে ফেলি। বিয়েটা গ্রামে হয়েছিল, তাই অফিসে কেউ জানত না, সৎ বাংলায় বললে, আমি নিজেই ইচ্ছে করে জানায়নি। সবাই, ইনক্লুডিং রুমাও জানত আমি আনম্যারিড। এরপরে একসময় রুমা আমার প্রেমে পড়ল। ওকে একসময় আমার বিয়ের কাহিনী বেশ করুণভাবে শোনালাম। অবশেষে, ডিভোর্সের শর্তে ও আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলো।
Ñ চিনি তো একজনকেই, বাট ওর কথা কেন?
Ñ ওর সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
নিশ্চিত কেউ কিছু লাগিয়েছে। মেয়েদের আর কোনো কাজ নেই। সারাক্ষণ শুধু সন্দেহ আর উদ্ভট কল্পনা। আরে বাবা ওর সঙ্গে যদি সম্পর্কই রাখব, তাহলে আর ডিভোর্স করে তোমাকে বিয়ে করলাম কেন? কিন্তু এসব কথা তো আর বলা সম্ভব না। আর নারী জাতির সঙ্গে বিতর্কে যাওয়ার মতো সুইসাইডাল আর কিছু হতে পারে না। তাই, নিজেকে কড়া নির্দেশ দিলাম, মাথা ঠা-া রাখবে।
Ñ হঠাৎ এই প্রশ্ন?
Ñ এটা তো আমার প্রশ্নের উত্তর হলো না।
ওরে বাবা। টেম্পারেচার তো দেখি একশ সাত। যেকোনো সময় প্রলাপ বকা শুরু হবে। আর নয়তো চোখের পানি। দ্রুত সিচুয়েশান হ্যান্ডেল করতে হবে। আর টপিকটাও বন্ধ করতে হবে। সোজাসুজি উত্তর দেওয়া শুরু করলাম
Ñ ওকে। কি জানতে চাও, বলো।
Ñ প্রশ্নটা তো শুনেইছো।
Ñ ওকে। না। ওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।
Ñ তাহলে ও তোমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিল কেন?
দুই. একটা পিচ্চি পাচ্চি হওয়া দরকার। না হওয়া পর্যন্ত ওর এই সন্দেহ বাতিক যাবে না। আসলে একজনকে ডিভোর্স করে যেহেতু ওকে বিয়ে করেছি, তাই হয়তো মাথায় আটকে গেছে, ওকেও না আবার ছেড়ে দিই। ওকে দোষ দিচ্ছি না, ওর জায়গায় আমি থাকলে, আমিও হয়তো এমনটা করতাম।
কিন্তু এই মুহূর্তের মিলিওন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে, সীমা কেন ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাল? ও এখন আছে কোথায়? কি করছে? এ কি করছি আমি? নাহ, মাথায় এখন শুধু সীমা ঘুরছে। মনে হচ্ছে আজকে আর ঘুম আসবে না। পাশে রুমা শুয়ে আছে। উঠে যে পায়চারি করব, তার উপায় নেই। খেঁকিয়ে উঠবে। চোখ বন্ধ করে আর কতক্ষণ ঘুমের আক্টিং করা যায়? আচ্ছা, ও কই ঘুমিয়েছে? জানবার তেমন কোনো ইচ্ছা নেই। ইচ্ছা নেই, বলা ভুল হবে, ইচ্ছা খানিকটা আছে। ঘুমালে একটু পায়চারি করতাম বা নিশ্চিন্ত মনে ভাবতাম, কেন সীমা যোগাযোগ করতে চাইল? এই মুহূর্তে যা জানবার জন্য সত্যিই মন ছটফট করছে। সীমার চরিত্রের সঙ্গে ব্যাপারটা একেবারেই মেলে না। ও কি সত্যিই সীমা? নাকি অন্য কেউ? আর সীমা হয়ে থাকলে হঠাৎ এতদিন পরে কেন যোগাযোগ করতে চেষ্টা করল?
হেল্প চাওয়ার মেয়ে সীমা না। আর আমার কাছে তো আরোই চাবে না। নিজের বাবা মার কাছেই চায়নি। ইনফ্যাক্ট যখন ওকে রুমার ব্যাপারটা জানালাম, তখন ও বেশ শান্তভাবেই মেনে নিয়েছিল। সরি বলে ক্ষমা চেয়েছিলাম। ক্ষতিপূরণ টাইপের কিছু চাইলে, আমি সাধ্যমত চেষ্টা করব, এও বলেছিলাম। সব শুনে সীমা শুধু একবার আমার দিকে তাকিয়েছিল। আর মুখে বলেছিল, লাগবে না। একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কোথায় যাচ্ছে, কি করবে এসব ব্যাপারে তেমন কিছু বলেনি। খারাপ লেগেছিল। অন্যায় যে করছি, তা নিয়ে কোনো দ্বিধা ছিল না। আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম, কোনোভাবে কম্পেনসেট করার। ওর জীবনটা হয়তো আগের মতো করে দিতে পারব না, তবে কিছু প্রায়শ্চিত্ত করতে পারলে হয়তো অপরাধবোধ কিছু কমত। বাট সুযোগ দিল না। (চলবে-০১)
লেখক: চিকিৎসক ও কলামিস্ট
সম্পাদনা: আশিক রহমান

 

এক্সক্লুসিভ নিউজ

RvZxq wek¦we`¨vj‡q fyZy‡o †d‡ji AvQi
GKB K‡ÿi mevB GKB wel‡q dv÷ K¬vmavix †dj!

†W¯‹ wi‡cvU© : wmbw_qv Av³vi| biwms`x miKvwi K‡j‡Ri e¨e¯’vcbv wefv‡Mi... বিস্তারিত

Kz K¬v· K¬¨vb mvRvq A·‡dvW© wkÿv_©x ewn®‹vi

  Zvwbqv Avjg Zš^x: QvÎRxeb gv‡bB wbqgvbyewZ©Zv I k„•Ljvq cwic~Y©... বিস্তারিত

†hvMe¨vqvg cvV¨µg‡K Aby‡gv`b w`j fvi‡Zi †RGbBD cwil`

AwiwRr `vm †PŠaywi, KjKvZv †_‡K : GKvwaKevi LvwiR Kivi ci... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : [email protected], [email protected]
Send any Assignment at this address : [email protected]