এক ঈদে আমি একটি সেন্টু গেঞ্জি পেয়েছিলাম

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 23/06/2017 -13:51
আপডেট সময় : 23/06/ 2017-13:51

 

জুনায়েদ আহমদ হালিম : বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন আমার বয়স মাত্র সাত বছর। আটষট্টি সালের শেষের দিকে এবং ঊনসত্তর এর শুরুর দিকের স্মৃতি গুলো এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। মনে থাকার যথেষ্ট কারণ হলো, আমার ৪০-৪৫ দিনের ছোট বোন তখন মারা যায়।
বাবা তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানে চাকরি করতেন। সেই সুবাধে আমরা মতিঝিলের ব্যাংক কলোনীতে বসবাস করতাম। আমরা ঈদের আগে মতিঝিলের থেকে নরসিংদীতে গ্রামের বাড়িতে যেতাম। তখনকার সময়ে যাতায়াত ব্যবস্থা এত সহজ ছিল না। নারায়ণগঞ্জ হয়ে নরসিংদী যেতে প্রায় ৩ বা ৪ ঘণ্টা সময় লাগত। গ্রামের রাস্তাঘাটও তেমন ভালো ছিল না। তারপরও ঈদে গ্রামে যাওয়াটা ছিল আমাদের প্রধানত আনন্দের বিষয়।
ঈদে জামা-কাপড়ের মাপ নেওয়ার জন্য আমাদের ফকিরাপুলের টেইলার্সের দোকানে নিয়ে যাওয়া হতো। তখন রেডিমেট কাপড় সম্ভব বা পাওয়া যেতো না এবং পাওয়া গেলেও সেটা খুবই কম। বলা যায় রেডিমেট কাপড়ের চল বা রীতি ছিল না। এ কাপড় বিক্রিই হতো। আর বিশেষ করে মানুষ পছন্দও করত না। আর এখন তো রেডিমেট কাপড়ের যুগ বলা যায়।
ফকিরাপুলের টেইলার্সের দোকানে আমাদের ভাই-বোনদের জন্য সুতি জামা বা সাদা কাপড় বানানো হতো। শার্ট দেখে মনে হতো যেন স্কুল ড্রেস। ঈদ এবং স্কুল ড্রেস মনে হয় যেন একসঙ্গে। বাটার জুতার সঙ্গে লাল বা সাদা মোজা কেনা হতো আমাদের জন্য। আমাদেরকে রোজার ঈদেই জামা-কাপড় দেওয়া হতো। সে সময়ে একজন মধ্যবিত্ত বা ব্যাংক কর্মকর্তার সামর্থ্যরে বিষয়টি ছিল সীমবদ্ধ। আর তখন মানুষের চাহিদাও ছিল কম। আমাদের জন্য দেখা যায় বছরে দু’টি শার্ট বা প্যান্ট এবং এর সঙ্গে এক জোড়া জুতোর বেশি ছিল না।
আমার এখনো মনে আছে, মামা আমার বড় ভাইকে একজোড়া ‘নটি বয়’ জুতা কিনে দিয়েছিল। সেই জুতা পরবর্তী সময়ে আমি নিজেও ব্যবহার করেছি। আমাদের সময়ে জামা কাপড়ের ক্ষেত্রে সাজ সাজ রবের বিষয়টি ছিল না। মানুষের চাহিদা কম থাকায় অল্পতেই তুষ্ট থাকত। দেখা গেছে এক ঈদে আমরা প্যান্ট পেয়েছি আবার অন্য ঈদে শার্ট। আবার দেখা যায় শার্ট ও জুতা পেয়েছি, তো প্যান্ট পাইনি।
অন্যদিকে এখন যেমন বাজারে হরেক রকম স্যান্ডেল পাওয়া যায়। তখন সে সময়ে সেটা পাওয়া যেত না। বর্ষাকালে ব্যবহার করার জন্য নাগরা ওয়ালা টায়ারের জুতা ছিল। রিকশার পুরাতন টায়ার কেটে জুতা তৈরি করা হতো। আমার মনে আছে বাবা আমাকে দুই টাকা দিয়ে টায়ারের জুতা কিনে দিয়েছিলেন। দেখা গেছে ওটাই ছিল আমার ঈদের জুতা। এতেই আমি খুশি ছিলাম। বাবার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ভাই-বোনদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারতেন এরকম কিন্তু না। এমনকি আমাদের আশে-পাশে প্রতিবেশী যারা ছিল তাদের অবস্থাও ঠিক এরকমই ছিল।
আমাদের সময়ে দেখতা রমজান মাসে গ্রামে এমনকি শহরে প্রচুর ‘সেউই’ বানানো হতো । ‘সেউই’টা ছিল হাতে বানাতো সেমাই। ফুল পিঠা, চাপড়ি পিঠা, ফাপড়ি পিঠা এরকম বিচিত্র রকমের বা বিচিত্র আকৃতির পিঠা তৈরি করা হতো। রোজার মাসে গ্রামের মহিলা বা মেয়েরা এই সেউই বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকত। মা- জেঠিদের সঙ্গে আমরাও কাজ করতাম। আর ঈদে আমাদের স্পেশাল আইটেম ছিল মুরাব্বা। বিন্নি ধানের খই ও চালের মুড়িও ভাজা হতো। এগুলো ছিল ঈদের প্রস্তুতির একটা অংশ। এ খাবার গুলো আবার আত্মীয় বাড়িতে বিশেষ করে জামাই বাড়ি ও শ্বশুড় বাড়িতে বিনিময় করা হতো। আমরাও দিতাম এবং আমাদের বাড়িতেও অনেকে ঈদ বানানো খাবার নিয়ে আসতো।
সে সময়ে খাবার বা পোশাক পরিচ্ছেদে কোনো জৌলস ছিল না। মনে আছে আমার একমাত্র মেয়ে কোনো এক ঈদে ১৮ সেট জামা উপহার পেয়েছিল। অথচ এক ঈদে আমি একটি সেন্টু গেঞ্জি পেয়েছিলাম। এটার মূল কারণ ছিল, বিশেষ চাহিদার কথা বিবেচনা করে যার যেটা প্রয়োজন তাকে সেটা দেওয়া হতো। এটা ঠিক এরকম যে ঈদের উপহারও দেওয়া হলো আবার প্রয়োজনও মিটে গেল। আমাদের সময়ে এতো বিলাসবহুল বিষয়টি ছিল না। কিন্তু আমাদের মাঝে প্রচন্ড উচ্ছ্বাস ছিল। ঈদ উপলক্ষ্যে মামার বাড়িসহ অন্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যেতাম। তারাও আমাদের বাড়িতে আসত।
ঈদের পরও আমরা অনেক দিন দলবেধে ঘুড়ে বেড়ানো এবং খেলাধুলা করতাম। আমাদের মাঝে এখন আন্তরিকতা কম। আমরা অনেক খরচ করি কিন্তু সেখানে আনন্দের পরিমান কম। আমাদের সময় পাঞ্জাবির চল বা রীতি ছিল না। আর এখন ঈদ মানেই নতুন পাঞ্জাবি কেনা। এখন আরেকটি বিষয় কাজ করে সেটা হলো কে বেশি কিনতে পারল বা কতরকমের খাবার তৈরি করতে পারল। আগে ঈদ উদযাপন করত আন্তরিকতার জায়গা থেকে, এখন আন্তরিকতার চেয়ে জৌলস দেখানোর প্রবণতা বেশি কাজ করে। মূল কথা হলো ঈদ যখন আসে তখন প্রচুর আনন্দ নিয়েই আসে।
পরিচিতি: চেয়ারপার্সন, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত গ্রহণ: বায়েজিদ হোসাইন
সম্পাদনা: আশিক রহমান

এক্সক্লুসিভ নিউজ

RvZxq wek¦we`¨vj‡q fyZy‡o †d‡ji AvQi
GKB K‡ÿi mevB GKB wel‡q dv÷ K¬vmavix †dj!

†W¯‹ wi‡cvU© : wmbw_qv Av³vi| biwms`x miKvwi K‡j‡Ri e¨e¯’vcbv wefv‡Mi... বিস্তারিত

Kz K¬v· K¬¨vb mvRvq A·‡dvW© wkÿv_©x ewn®‹vi

  Zvwbqv Avjg Zš^x: QvÎRxeb gv‡bB wbqgvbyewZ©Zv I k„•Ljvq cwic~Y©... বিস্তারিত

†hvMe¨vqvg cvV¨µg‡K Aby‡gv`b w`j fvi‡Zi †RGbBD cwil`

AwiwRr `vm †PŠaywi, KjKvZv †_‡K : GKvwaKevi LvwiR Kivi ci... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : [email protected], [email protected]
Send any Assignment at this address : [email protected]