গণতন্ত্রের কা-ারি আওয়ামী লীগ

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 23/06/2017 -13:45
আপডেট সময় : 23/06/ 2017-13:45

Bahlul Majnun chunnu

বাহালুল মজনুন চুন্নূ : গণতন্ত্র হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা। এই শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দল আওয়ামী লীগের হাত ধরে। এই দলটির আজ আটষট্টিতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ঢাকার কেএম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ ঘটে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী লীগের। তিনশ প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুুসরণ করে মওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে চল্লি¬শ সদস্যবিশিষ্ট সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থেকেই মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে দলের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেদিন এই দলটির প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে সেদিন থেকে বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ স্বপ্নের জাল বোনা শুরু হয়ে যায়। আন্দোলনে-সংগ্রামে-গৌরবে উজ্জ্বল ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ আদর্শে গণতান্ত্রিক, নীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ, চেতনায় জাতীয়তাবাদী, মূল্যবোধে সমাজতান্ত্রিক। বাংলাদেশের মানুষ আজন্ম গণতন্ত্রাকাক্সক্ষী। তাদের এই আকাক্সক্ষার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় হয়েছে। আর এক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে আওয়ামী লীগ।
‘আওয়াম’ শব্দের অর্থ জনগণ। আওয়ামী লীগ জনগণের লীগ তথা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এদেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার, ধর্ম পালনের অধিকার এবং শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় দলটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। নিজেদের দলের অভ্যন্তরেও করতে থাকে গণতন্ত্রের চর্চা। ১৯৬৬ সালের ষষ্ঠ সম্মেলনে দলীয় কাউন্সিলররা বাঁচার দাবি ছয় দফার পক্ষে জোরালো সমর্থন দেন। সেই সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দিন আহমদ। এই সম্মেলন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠার পথ-পরিক্রমা। আইয়ুবের স্বৈরতান্ত্রিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। অব্যাহত রাখেন গণতান্ত্রিক পথের অভিযাত্রা। কিন্তু পাকিস্তানি স্বৈরশাসন সেই পথরুদ্ধ করতে চাইলে তিনি ও তার দল আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতা অর্জনের দিকে এগিয়ে যান। অধ্যাপক লাস্কি বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা হচ্ছে সেই সামাজিক পরিবেশ যাতে মানুষ নিজেদের পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করার সুযোগ লাভ করে এবং সেই পরিবেশ রক্ষাকল্পে অদম্য আগ্রহ প্রকাশ করে।’ কিন্তু বাঙালি জাতির মাঝে সেই সামাজিক পরিবেশ ছিল না। ছিল শুধু পরাধীনতার শেকল। সেই শেকল থেকে মুক্তির জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেটা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই উপমহাদেশে উদার গণতন্ত্র চর্চা ও প্রতিষ্ঠার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু সবসময়ই বলতেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার থাকা দরকার।’ তিনি সবসময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ভাবতেন। সত্তরের নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই। কারণ, আমাদের মূল লক্ষ্যে এখনো আমরা পৌঁছাইনি। জনগণকে ক্ষমতা অর্জন করতেই হবে। মানুষের উপর মানুষের শোষণ, অঞ্চলের উপর অঞ্চলের শোষণের অবসান ঘটাতেই হবে।’ এই ঘোষণার ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথাই বলেছিলেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগসহ সারাদেশের আপামর জনতা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক নির্দেশনায় ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং দেশের মানুষকে তাদের মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে পারার কারণেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র। আর এভাবেই শেখ মুজিবুর রহমান, গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।
স্বাধীন দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে যেতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সংবিধানের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় গণতন্ত্রকে। সংবিধানের এগারো নম্বর অনুুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে।’ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় স্বাধীন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও গণতন্ত্রের চর্র্চা হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক ছিল গণতন্ত্রকে টেকসই করার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু দুর্ভাগ্য এক শ্রেণির দুষ্টচক্র এর ভুল ব্যাখ্যা বিশে¬ষণের হীন প্রয়াস চালায়। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতার হত্যার মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল। গণতন্ত্রের পরিবর্তে সামরিক শাসনের যাঁতাকলে দেশে বিরাজ করছিল অরাজক সামরিকতন্ত্র। মহান স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রে দীপ্ত আওয়ামী লীগকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র চলে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থনে মহীরুহ হয়ে ওঠা আওয়ামী লীগকে কোনো ষড়যন্ত্র টলাতে পারেনি। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের ১৩তম সম্মেলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভানেত্রী নির্বাচন করা হয়। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পেয়েছিল। তিনি দেশে ফিরে এসে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেই কেবল পুনরুজ্জীবিত করেননি, গণতন্ত্র পুুনরুদ্ধারের সংগ্রামকেও এগিয়ে নিয়ে গেছেন দূরদর্শীতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র এশিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে, জেল-জুলুম নির্যাতন ভোগ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গণমানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে ঐতিহ্য বিরাজমান সেটাকে রক্ষা করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দলটির অবস্থান দেশ ও জাতি এবং একইসঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা যেমন সফল ঠিক তেমনি তিনি সফল দলীয় সভানেত্রী হিসেবেও। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কূটকৌশলে বারবার গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা সকল বাধা-বিঘœকে উপেক্ষা করে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যেমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের বিষফোঁড়াকে কেটে ফেলে দেশকে অগণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আগামীতেও আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যেমে নিজেদের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই প্রত্যাশাই রইল।
লেখক: সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
সম্পাদনা: আশিক রহমান

এক্সক্লুসিভ নিউজ

RvZxq wek¦we`¨vj‡q fyZy‡o †d‡ji AvQi
GKB K‡ÿi mevB GKB wel‡q dv÷ K¬vmavix †dj!

†W¯‹ wi‡cvU© : wmbw_qv Av³vi| biwms`x miKvwi K‡j‡Ri e¨e¯’vcbv wefv‡Mi... বিস্তারিত

Kz K¬v· K¬¨vb mvRvq A·‡dvW© wkÿv_©x ewn®‹vi

  Zvwbqv Avjg Zš^x: QvÎRxeb gv‡bB wbqgvbyewZ©Zv I k„•Ljvq cwic~Y©... বিস্তারিত

†hvMe¨vqvg cvV¨µg‡K Aby‡gv`b w`j fvi‡Zi †RGbBD cwil`

AwiwRr `vm †PŠaywi, KjKvZv †_‡K : GKvwaKevi LvwiR Kivi ci... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : [email protected], [email protected]
Send any Assignment at this address : [email protected]